উখিয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সড়ক সংস্কার করে দিলেন মুসলিম যুবক

উখিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের উখিয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের চলাচলের অনুপযোগী একটি গ্রামীণ সড়ক নিজ অর্থায়নে সংস্কার করলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের এক যুবক।

এটি টাকার অংকের চাইতে হাল সময়ের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্তই বটে।

এ উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের শৈলেরডেবা গ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরে যাতায়তের একমাত্র গ্রামীণ সড়কটি সংস্কারকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘ ৪ শত ফুটের গ্রামীণ এ সড়কটি বর্ষার বৃষ্টির পানিতে কাদাপূর্ণ হওয়ায় হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শৈলেরডেবা গ্রামের অর্ধ-শত বৌদ্ধ পরিবারের লোকজনের চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে এলে সড়কটি সংস্কারে এগিয়ে আসেন হেলাল উদ্দিন নামের মুসলিম সম্প্রদায়ের এক যুবক। সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ২০ সহস্রাধিক টাকা।

মানবিকপ্রাণ এ যুবক উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার আহমদের ছেলে হেলাল উদ্দিন। তার পিতা রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য।

হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যের সন্তান হিসেবে এলাকার সর্বসাধারণের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তারা এলাকার সমস্যা-সংকটের কথা তাকে ( হেলাল ) জানাতো। গত ৩ দিন আগে শৈলেরডেবা গ্রামের লোকজন বৌদ্ধ মন্দিরে চলাচলের একমাত্র গ্রামীণ সড়কটি বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে কাদাপূর্ণ হয়ে অনুপযোগী হয়ে পড়ার খবর দেয়। এসময় তারা ( স্থানীয় বাসিন্দা ) দুর্ভোগে থাকার কথাও বলেন।

এ নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার আশ্বাস দেন বলে জানান তিনি।

হেলাল বলেন, চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া গ্রামীণ সড়কটির ইতিমধ্যে টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। এটির কাজ শুরু হতে আরো মাস-দেড়ক সময় লাগবে। কিন্তু বর্ষায় সড়কটি কাদাপূর্ণ হয়ে পড়ায় চলাচলের অনুপযোগী উঠে।

“ দীর্ঘ ৪ শত ফুট দীর্ঘ সড়কটি আপাতত ইট ও বালু দিয়ে সলিং করা হয়েছে। যাতে অন্তত বর্ষা মৌসুমটা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন হাটা চলা সেই উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ”

সড়কটির সংস্কারকাজে ২০ হাজারের বেশী নিজ অর্থায়নে খরচ করেছেন বলে জানান মানবিক এ যুবক।

এদিকে দুর্ভোগে থাকা শৈলেরডেবা গ্রামের সুশীল বড়ুয়া বলেন, গ্রামীণ এ সড়কটি বৌদ্ধ মন্দিরে যাতায়তের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র মাধ্যম। সড়কটি সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করে দেয়ায় স্থানীয়রা খুশি হয়েছেন। এ জন্য তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হেলাল উদ্দিনের প্রতি।