উখিয়া-টেকনাফের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা কোরবানির পশু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে

উখিয়া প্রতিনিধি :

কোরবানির পশু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা। যেখানে ৩ হাজার কোরবানির গরুর মধ্যে কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের ৯’শ গরু বরাদ্দ থাকার কথা; সেখানে পেয়েছে মাত্র ২০০টি। ফলে রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে কোরবানির গরু থেকে।

কিছু এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জদের সাথে হাত মিলিয়ে এসব অপকর্ম করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। এই জন্য তারা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রতিবছর কোরবানির সময় গরু নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গী কানেকশনের তৎপরতা বেড়ে যায়। এই কারনে বিভিন্ন এনজিও ক্যাম্প ইনচার্জদের সাথে হাত মিলিয়ে সরাসরি ক্যাম্পে গরু ছাগল বিতরণ করে। তাছাড়া কোন জবাবদিহিতা না থাকার কারণে রুগ্ন ও কোরবানির অনুপযুক্ত গরু কৌশল বিতরণ করা হয়। যদিও এই জঙ্গী কানেকশন রোধে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে এই কোরবানির পশু বিতরণ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়মের কোন তোয়াক্কায় করা হচ্ছে না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এই বছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩ হাজার পশু বিতরণ করা হলেও অনুমোদন নিয়েছে ১ হাজারেরও কম। ফলে কোরবানির গরু থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে।

এ ব্যাপারে অনুমোদন ছাড়া বিতরণ করা তুর্কি এনজিও সংস্থা ‘দাইয়িনাত’ এর এক কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোরবানির পশু শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে বিতরণ করলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন পড়ে না।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু দ্দৌজা বলেন,“প্রতিবছর কোরবান আসলে এ ধরণের অভিযোগ করা হয়। কিন্তু এ ধরণের অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। কারণ কোরবানির পশু বিতরণের ক্ষেত্রে এনজিও সংস্থাগুলোকে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। আবার এটি উপজেলা প্রশাসন তদারকি করে। আর জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পেলে এনজিওগুলোও অর্থ বরাদ্দ পায় না। সুতরাং এখানে এনজিও সংস্থা ও ক্যাম্প ইনচার্জদের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। উখিয়ার কিছু জনপ্রতিনিধি আছে; যারা এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে অবৈধ ব্যবসা করার চিন্তা করে। তারাই এসবের সাথে জড়িত।”

বিডি/কক্স