‘এ দেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বীজ বপন করেন জিয়াউর রহমান’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিকৃত মস্তিষ্ক, কাণ্ডজ্ঞানহীন, বিবেকবর্জিত ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ধর্ষণকারী। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তাসহ নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের পাশে থাকতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

ধর্ষকরা যে পাড়া বা মহল্লায় থাকে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকলে বা কোনো পিতা-মাতার সন্তান ধর্ষক হলে তাদের সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার থেকে ঘৃণা, বর্জন এবং বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষ থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের চারটি বিভাগের ৩২ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এসব কথা বলেন।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পারভীন আকতারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব কাজী রওশন আক্তার, অতিরিক্ত সচিব ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ও যুগ্ম সচিব মো. মুহিবুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকরা।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা এ দেশের নারীদের ধর্ষণ করেছিল, তাদের নিয়ে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে সরকার গঠন করে এ দেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের বীজ বপন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া ২০০১ সালে নীলনকশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে তাদের দলের লোকেরা পূর্ণিমা, ফাহিমাসহ অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করে। তারা সে সময় বিচারও পায় নাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এ দেশ থেকে ধর্ষকদের মূলোৎপাটন হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ধর্ষণ প্রতিরোধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে ধর্ষণের বিচারের রায় হতে শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরো বলেন, স্থানীয় সমাজের নেতারা, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। বাল্যবিয়ে বন্ধে বিয়ে নিবন্ধক ও পুরোহিতদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব কাজী রওশন আক্তার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্যাতনকারী ও ধর্ষকদের প্রতিহত করতে হবে। পাড়া-মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক পারভীন আকতার বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আজকের মতবিনিময়সভায় নোয়াখালী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার উপপরিচালকরা করোনা ও সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাঁদের কার্যক্রম তুলে ধরে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের সব নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।