কক্সবাজার সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার অপেক্ষা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের চেহারা পাল্টে গেছে করোনার প্রভাবে। ১২০ কিলোমিটার সৈকতে নেই কোলাহল। প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে সৈকতে স্থানীয়দের উপস্থিতিও কম। মানুষের বিচরণ কমে যাওয়ায় প্রকৃতি সেজেছে নিজরূপে।

জনমানবশূন্য সমুদ্রতীরে সাগরলতা আর লাল কাঁকড়ার বিচরণ সবার নজর কাড়ছে। অতিসম্প্রতি কক্সবাজার সৈকতের ১০ কিলোমিটার জুড়ে ভেসে আসা বর্জ্য সৈকতের সৌন্দর্য ম্লান করলেও কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে পুনরায় সৌন্দর্য ফিরেছে। তবে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছোট বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কষ্টের দিন শেষ হচ্ছে না।

দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর ১২ জুলাই থেকে কক্সবাজারে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। হাটবাজার স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে সবকিছু। তবে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

আসন্ন কোরবানির ঈদের পরে হোটেল-মোটেল জোনের ওপর শিথিলতা আসতে পারে। এ বিষয়ে আবাসিক হোটেলগুলোর কর্মকর্তারা ১৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। অন্যদিকে ঈদের আগেই বেতন-ভাতা ও বোনাস প্রদানের দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার হোটেল-মোটেল- গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

এদিকে সপ্তাহখানেক আগে সমুদ্র থেকে বর্জ্যরে সঙ্গে ভেসে আসে দেড় শতাধিক কাছিম। তবে ২০টির অধিক কাছিম মৃত্যুবরণ করেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা। বর্জ্য পরিচ্ছন্ন অভিযানে পরিবেশ সংগঠনগুলোর সঙ্গে এগিয়ে আসে জেলা প্রশাসন। আবার বর্জ্য ভেসে আসার কারণ খুঁজতে জেলা প্রশাসনের সাত সদস্যের তদন্ত টিম কাজ করছে। ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর্যটন স্পটসমূহ বন্ধ থাকায় জীবন-জীবিকা নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টে আছেন ট্যুর গাইডসহ এ শিল্পে জড়িতরা

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য পর্যটন স্পট এখন উন্মুক্ত। কক্সবাজরের দর্শনীয় স্থানসমূহ খুলে দেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। ভ্রমণের জন্য কক্সবাজার সৈকত উন্মুক্ত করে দেওয়া না হলেও সম্প্রতি কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী পয়েন্টে বিকালবেলা ভিড় বাড়ছে স্থানীয় অধিবাসীসহ কিছু দর্শনার্থীর। দর্শনার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে আগমন ঘটছে বেশ কিছু বিচ ফটোগ্রাফারের। যারা এত দিন বেকার দিন কাটাচ্ছিলেন।

পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীসহ পর্যটনের ওপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাওয়া মানুষগুলো পর্যটনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানালেও করোনা মহামারী মাথায় রেখে সব সিদ্ধান্ত যাতে নেওয়া হয় তেমন দাবি সচেতন মহলের। তবে সবাই চান কক্সবাজার সৈকতে আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসুক জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবায়নসহ সব মহলের সহযোগিতায় কক্সবাজারে সংক্রমণের হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। এজন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ কাজ করেছে। সার্বিক বিবেচনায় ১২ জুলাই থেকে লকডাউন শিথিল চলছে। আবাসিক হোটেল-মোটেল খোলার বিষয়ে কোরবানির ঈদের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিডি/কক্স