কলেজ ছাত্রকে সন্ত্রাসী সাজালো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজারের টেকনাফে জাদিমোরা ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসে হামলার অভিযোগ এনে স্থানীয় এক কলেজছাত্র সাইফুল করিমকে আটক করেছে এপিবিএন। এঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এটি সিআইসির সাজানো নাটক বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টারদিকে ২৭নং জাদিমোরা ক্যাম্প থেকে তাকে আটক করা হয়। সে উত্তর দমদমিয়ার মোঃ নুরুল ইসলামের ছেলে এবং হ্নীলা মঈন উদ্দীন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

আটককৃত সাইফুলের পরিবারের দাবী, ২৭ নং জাদিমোরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বন বিভাগের কিছু জমিতে দীর্ঘকাল ধরে সাইফুলের পরিবার চাষাবাদ করে ভোগ করে আসছে। রোহিঙ্গা আসার পরে তাদের জমির একাংশের উপর সিআইসি অফিস নির্মান করে। সেই সূত্রে তৎকালীন সিআইসি তাদের পরিবাদের দুই জন সদস্যকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরী দেয়ার আশ্বাস দেয়, যদিও পরে চাকুরী দেয়নি। গতকাল সকালে সিআইসি অফিস সংলগ্ন তাদের দখলিয় অবশিষ্ট জমিতে সিআইসি ঘর নির্মান করতে গেলে সাইফুল করিম বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সিআইসি এপিবিএনকে সংবাদ দিলে তারা এসে ঘটনাস্থল থেকে সাইফুলকে তাড়িয়ে দেয়। পরে ঘটনার ঘন্টা খানেক পরে সাইফুলের বাড়ির সামনে থেকে এপিবিএন সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এঘটনার পরে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী নিজে বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিলেও সিআইসি কর্ণপাত করেনি বলে দাবী করেছেন তিনি।

এদিকে এলাকার মেম্বার মোহাম্মদ আলী বলেন, সে একজন শান্ত নম্রভদ্র ছেলে। এলাকায় তার ব্যাপারে কোন অভিযোগ নেই। একজন কলেজ ছাত্রকে নিজের ক্ষমতাবলে এভাবে সন্ত্রাসী বানোনো অযৌক্তিক। তিনি এনজিওর কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে জমি রোহিঙ্গাদের দখল করে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

সিআইসি খালিদ হোসেন বার্তা বাজারকে জানান, সাইফুল করিম এসে অফিসের বেড়া ভেঙ্গেছে। যার কারণে তার বিরুদ্ধে পুলিশকে অভিযোগ করেছি। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে সাইফুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব অপরাধের কোন প্রত্যক্ষদর্শী আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে, নেই বলে দাবী করেন।

এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, এপিবিএন ইনচার্জ রাকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। সিআইসির অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আমরা আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে গিয়ে ভাংচুর, কর্মচারীদের গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার খবর পেয়ে সাইফুল করিমকে আটক করে।

সূত্র বার্তাবাজার