কোনো কাজেই আসছে না ৬ কোটি টাকার ব্রিজ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে বারোমাসিয়া নদীর উপর ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার কুলাহাট ইউনিয়নের বিলুপ্ত বাঁশপেঁচাই ছিটমহলবাসীসহ চরাঞ্চলের ভাগ্যবঞ্চিতদের উন্নয়নে বিলুপ্ত ছিটমহল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ শুরু করে লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সেখানে ১৩৫ মিটার সেতুটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ছয় কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সেতুর দু’পারের স্থানীয়দের কাছ থেকে সংযোগ সড়কের জমি ক্রয় না করেই গত এক বছর আগে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

এদিকে যেহেতু বিলুপ্ত ছিটমহল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে সেহেতু জমি অধিগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

অন্যদিকে বোয়ালমারী বাঁশপেঁচাই বিলুপ্ত ছিটমহলটি লালমনিরহাট সদর উপজেলায় এবং সেতুটি নির্মিত হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায়।

ফলে সংযোগ সড়কের জমি নিয়ে জটিলতায় দুর্ভোগে পড়েছে হাজারও মানুষ। এ কারণেই সেতুর পশ্চিমপাড়ের ৩০০ ও সেতুর পূর্বপাড়ের ২৫০ গজ সংযোগ সড়ক না থাকায় চর-বোয়ালমারী, বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশপেচাই, চর-খারুয়া, আনন্দবার, জোতিন্দ্র নারায়ণ, তালুক শিমুলবাড়ীসহ ফুলবাড়ী ও লালমনিরহাট উপজেলার ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে সেতু থাকলেও সড়ক নেই। সেতু নির্মাণ করা হলেও নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই নদী পার হচ্ছেন মানুষজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সেতুর কাজ শুরু করে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার আব্দুল হাকিম কনস্ট্রাকশন। নির্মাণ কাজ শেষ করে ২০১৯ সালের জুন মাসে।

স্থানীয় বাবুল শেখ, মমিনুল, রাজ্জাক, আইনুল ও রহিমা বেগম জানান, যুগের পর যুগ ধরে এই দুর্ভোগে কোমলমতি ছেলেমেয়েদের নিয়ে নদী পারাপার করছি। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে সরকার একটা সেতু উপহার দিল। সেটি নির্মাণের এক বছর হয়ে গেলেও স্বপ্নের সেতু দিয়ে পারাপার হতে পারছি না।

স্থানীয় শিক্ষক মিজানুর রহমান মুন্না বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটির সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। তাই প্রশাসনিক ও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংযোগ সড়কটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এজাহার আলী জানান, সেতুটি স্থানীয়দের স্বপ্নের। কিন্তু কেউ কেউ এটাকে নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছেন। তিনি অনতি বিলম্বে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের চন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার অনুরোধ করেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল রাজীব জানান, সেতুটি নির্মাণে কুড়িগ্রাম এলজিইডি জড়িত না। ফলে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। লালমনিরহাট এলজিইডি বলতে পারবে।

বিডি/সা