ক্রান্তিকালে কক্সবাজারে UNHCR এর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে : ডিসি কামাল হোসেন

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে কক্সবাজার জেলায় UNHCR এর ভূমিকা স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থে UNHCR এর বহুমুখী এসব অবদান স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

জাতি সংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা UNHCR থেকে ২১ কোটি টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৭৫০ টি ফ্যামিলি কনটেন্ট তাঁবু হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন কামাল হোসেন এ কথা বলেন।

ইউএনএইচসিআর-এর হেড অব অপারেশন্স মারিন ডিন কাইদোমচাই (Mr. Marin Din Kajdomcaj) এর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর সকালে শহরের বাইপাস সড়কের উত্তরণ গৃহায়ণ সমিতির UNHCR এর ওয়্যার হাউজে অনুষ্ঠিত এ তাঁবু হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হেড অব অপারেশন সৈয়দ আলী নাসিম খলিলুজ্জামান।

তাঁবু হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডিসি মোঃ কামাল হোসেন আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা আগমনের কারণে কক্সবাজার জেলাবাসী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়ার জন্য জেলাবাসীর পক্ষে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কার্যক্রমে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আইএনজিও, এনজিও’র সাথে যোগাযোগ করা হয়। এসব সংস্থার মধ্যে UNHCR সবসময় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ফলে কক্সবাজার জেলায় UNHCR এর সম্পাদিত বিভিন্ন কার্যক্রমের স্থানীয় জনসাধারণ প্রচুর সুফল ভোগ করছে। তিনি বলেন, ইউএনএইচসিআর-এর বহুমুখী আর্থ সামাজিক সহায়তা স্থানীয় জনসাধারণের টেকসই ও মার্যাদাপূর্ণ জীবন মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ইউএনএইচসিআর-কর্তৃক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩৫ কোটি ব্যয়ে আধুনিক ICU এবং HDU স্থাপন, কক্সবাজার সরকারি কলেজে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, জেলার ৫ টি কলেজে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বাস প্রদান, প্রায় ১০০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা, ৪০ টি সাইক্লোন সেল্টার সংস্কার, কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে উখিয়া- টেকনাফের ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ হাজার ৮৮৭ টিরও বেশি পরিবারকে আর্থিক সয়াহতা প্রদান, টেকনাফে সুপেয় পানির জন্য বৃহৎ একটি প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া সহ স্থানীয় জনগণের কল্যান ও সমস্যা দূরীকরণে আরো বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করায় ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানান। ডিসি মোঃ কামাল হোসেন আরো বলেন, বিগত ২০১৭ সাল থেকে স্থানীয় জনসাধারণের কল্যানার্থে ইউএনএইচসিআর এর গঠনমূলক কার্যক্রম অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনএইচসিআর-এর হেড অব অপারেশন্স মারিন ডিন কাইদমচাই বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরনার্থী ক্যাম্পের আশ্রয়দাতা হিসাবে বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের মানুষ মানবতা ও সহানুভূতিশীলতায় বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মি. মারিন ডিন কাইদমচাই আরো বলেন-কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের তত্বাবধানে ইউএনএইচসিআর প্রদত্ত প্রকল্পগুলো সুষ্ঠ ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। এজন্য তিনি জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট সকলেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মি. মারিন ডিন কাইদমচাই তাঁর বক্তব্যে ইউএনএইচসিআর ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনসাধারণের স্বার্থে চলমান বহুমুখী আর্থ সামাজিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহা. শাজাহান আলি, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মোঃ জুবায়ের হাবিব, ইউএনএইচসিআর-এর লিয়াঁজো অফিসার ইফতেখার উদ্দিন বায়েজিদ, ইউএনএইচসিআর সিনিয়র সাপ্লাই অফিসার ব্রায়ান গিটু, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কো-অর্ডিনেটর আফসার উদ্দিন সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যামিলি কনটেন্ট ৪৭৫০টি তাঁবু সম্প্রতি বন্যা কবলিত উত্তরবঙ্গ সহ সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যাদুর্গত, ভারী বর্ষনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দুর্গত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনএইচসিআর-এর হেড অব অপারেশন্স মারিন ডিন কাইদমচাই প্রধান অতিথি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হেড অব অপারেশন সৈয়দ আলী নাসিম খলিলুজ্জামানের কাছে ৪৭৫০টি তাঁবু আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এসব ফ্যামিলি টেন্ট তাঁবু’র মাধ্যমে ২৪ হাজার মানুষ উপকৃত হবে জানা গেছে।

বিডি/কক্স