চকরিয়ায় মা ও মেয়েকে নির্যাতন: তদন্ত কমিটি গঠন, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে: ডিসি

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:

চকরিয়ার হারবাং এ গরু চুরি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় অপরাধী যেই হোক, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এ হুশিয়ারি দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, গরু চোর যেই হোক এ ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় হয়েছে। কক্সবাজারের ডিডিএলজি (উপসচিব) শ্রাবস্তি রায়’কে আহবায়ক করে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ এর উপর ভিত্তি করে দ্রুততম সময়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এজন্য তদন্ত কমিটিকে পরবর্তী ৩ কার্য দিবসের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য ২ সদস্য হলো-চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন এবং হারবাং ইউনিয়নের উপজেলা ট্যাগ অফিসার।

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট এক মহিলা, তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ ৫ জনকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে কোমরে রশি বেঁধে পিটায় কিছু লোকজন। পরে তাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই গরু চুরি নিয়ে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তারা হলেন-চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৫৫), তার কন্যা সেলিনা আক্তার (২৮), আরেক কন্যা রোজিনা আক্তার (২৫), ছেলে মোহাম্মদ আরমান (৩০) ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছুট্টু (৩৮)। এ ঘটনার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

আবার গরু চুরির মামলায় চকরিয়ার নির্যাতিত সেই মা-মেয়েসহ ৫জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদুল হক বাদী হয়ে ওই নির্যাতিত ৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় গরু চুরি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় থানা পুলিশ আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

অপরদিকে, চকরিয়া চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার দেব জনস্বার্থে স্বপ্রণোদিত হয়ে হারাবাংয়ের ভাইরাল হওয়া গরু চুরির ঘটনায় একটি মামলা নিয়েছেন। মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মতিউল ইসলামকে পরবর্তী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়া চকরিয়ার ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ নিজেই আর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন।

 বিডি/কক্স