নন্দদুলাল রক্ষিতকে কারাগারে প্রেরণ

শাহেদ মিজান:

১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যায় নিজের সংশ্লিষ্টতা এবং ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন বরখাস্ত এএসআই নন্দদুলালও। কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে তিনি এই বর্ণনা দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নিজের জবানবন্দি দেন নন্দদুলাল।  মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামী ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী। তিনিও আদালতকে ঘটনার সত্যতা ও নিজের দায় স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে দিয়ে সিনহা হত্যা মামলা শীর্ষ দু’জন এবং এপিবিএন তিন সদস্যসহ মোট পাঁচজন স্বাকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিলেন।
অন্যদিকে ওসি প্রদীপের আরো একদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার তৃতীয় দফায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই লিয়াকত আলী, এএসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। আজ সোমবার ছিলো রিমান্ডের শেষ দিন। এর মধ্যেই প্রধান আসামী লিয়াকত আলী এবং নন্দদুলাল রক্ষিত জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু স্বীকারোক্তি না দেয়ায় ওসি প্রদীপের আরো এতদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
র‌্যাব সূত্র মতে, আত্মসমর্পণের পর গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, লিয়াকত ও নন্দদুলালসহ সাত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আরো সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল র‌্যাব। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। ওই চার দিন রিমান্ড শেষ হলে তদন্তের স্বার্থে তৃতীয় দফায় আরো চার দিনের আবেদন করা হলে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এপিবিএনের তিন পুলিশ সদস্য পৃথকভাবে বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারা মতে জবানমন্দি দেন। যার কারণে এ তিন পুলিশ সদস্য কারাগারে রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। পরে আরো ছয়জনকে আসামী করা হয়। দুইজন ছাড়া সব আসামী গ্রেফতার হয়েছে।

অপরদিকে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওসি প্রদীপের জামিনের জন্য চট্টগ্রাম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এহেছানুল হক হেনার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি আইনজীবীর প্রতিনিধি দল কক্সবাজার আদালতে হাজির হয়ে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন এবং জামিনের আবেদন করেন। আলাদত তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।