পদত্যাগের পর হাসপাতালে আহমদ শফী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার) মাদ্রাসার সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম নগরীর উদ্দেশ্যে আনা হয়৷ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আল্লামা শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয় হয়। এর আগে অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে আল্লামা শফীকে মাদ্রাসা থেকে বের করা হলে মাদ্রাসার প্রধান গেটেরসামনে প্রায় আধাঘণ্টা আটকে রাখেন আন্দোলনরত ছাত্ররা।

এরআগেও কয়েক দফা চমেক হাসপাতালে ও ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন আহমদ শফী।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদ্রাসার মাইক থেকে শিক্ষকরা বারবার ঘোষণা দেন, ‘তোমরা মাদ্রাসায় চলে আসো হুজুর অসুস্থ ওনাকে হাসপাতালে নিতে হবে।’ পরে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আন্দোলনরত কয়েকজন ছাত্র কথা বলেন। তাদের আশ্বাসে আল্লামা শফীকে হাসপাতালে পাঠানো  হয়।

তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি মহাসড়ক প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাত ১২ টার দিকে আবার গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। এখন হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এই বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্লাহ্ সিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বুধবার দুপুর থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাত্ররা মাদ্রাসা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আজ বৃহস্পতিবার রাতে শুরা কমিটির বৈঠকে ছাত্রদের চারটি দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। সেটি মাদ্রাসার মাইক থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন, র‌্যাব ও জেলা পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

এদিকে রাত ১২ টার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে আইন-শৃঙ্খলা যাতে অবনতি না হয় সেই লক্ষ্যে গোয়েন্দা সংস্থাসহ র‌্যাব ও জেলা পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্তক রয়েছে।

তবে গতকাল থেকে আজ রাত পর্যন্ত আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে তাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ, বুধবারের (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের মুখে শুরা কমিটির সদস্যদের সম্মতিতে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে শুরা কমিটির বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফীকে মাদ্রাসার মহাপরিচালক এর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মাদ্রাসার উপদেষ্টা বানানো হয়েছে।

মাদ্রাসাস্থ  ডাকবাংলার সামনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম রশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফিজুল হক টুটুল, র‌্যাব ৭ এর সিনিয়র কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্লাহ, মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মাসুদ আলম, ওসি (তদন্ত) রাজিব শর্মা, ওসি (অপারেশন) এএমআই তৌহিদুল করিম, ডিএসবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন।

বিডি/চ/র