পাগলিটা মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ!

আহসান সুমন:

গত১৮ আগস্ট ২০২০ইংরেজি, দুপুর ১টা বেজে ৪০ মিনিট। কক্সবাজার সদর মডেল থানার পাশ্ববর্তী এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় হঠাৎ চোখে পড়ে এক পাগলি কান্না করছে।

যে কিনা কাতরাচ্ছে মারাত্মক প্রসব বেদনায়। কিন্তু মানবিক সহযোগিতায় আশপাশের কেউই পাগলির দিকে এগিয়ে আসছে না। এই দৃশ্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হৃদয়কে নাড়িয়ে তুলে। তাই দ্রুত পাগলির সন্তান প্রসবে এগিয়ে যান তারা।

এক পর্যায়ে সন্তানও প্রসব হয় অভাগী পাগলির। এরপর একজন পুলিশ সদস্য এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন। সেটিই চোখে পড়ে প্রতিবেদকের।

পুলিশ সদস্যের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় কর্মরত সৈকত নামে একজন পুলিশ সদস্য পাগলির যন্ত্রণা দেখার সাথে সাথে সবার আগে থানার অফিসার ইনচার্জ খাইরুজ্জামানকে বিষয়টি অবহিত করেন। ততক্ষনে শত চেষ্টা করেও কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

পরবর্তীতে ডিউটি ইনচার্জ টাকার বিনিময়ে দু’জন মহিলাকে ডেকে আনেন।

এরপর পাগলির সন্তান ডেলিভারি হয়ে যায়। অসুস্থ দুনিয়াজুড়ে আসে সুস্থ একটি ফুটফুটে শিশু। যার আগামী কি হবে সেটি একমাত্র ওপরওয়ালা ছাড়া কেউই বলতে পারেনা।

পরবর্তীতে ওই দু’জন মহিলার হাতে কিছু টাকা দিয়ে গাড়িতে করে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য পাগলিটাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন।

অন্যদিকে এমন দৃশ্য দেখে সবাই বলাবলি করছিলেন, খাকি পোষাক পরা যে মানুষের বুলেটের আঘাতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মতো একটি সম্ভাবনাময় তাজাপ্রাণ নিথর হয়ে যায়, আর সেই অপরাধে একই পোশাকের কিছু লোক যখন বিচারের মুখোমুখি হয় ঠিক তখনই এমন মানবিক কিছু ভাল কাজ সত্যিকার অর্থে গৌরবের বহু উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয় গোটা পুলিশ বাহিনীকে। সাব্বাস, বাংলাদেশ পুলিশ। স্যালুট।

কিন্তু আফসোস রয়েই গেলো, “পাগলিটা মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউই।

বিডি/কক্স