প্রথম করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধন রাশিয়ার

বিডিদর্পণ ডেস্ক:

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন বলেছেন, মস্কোর গামেলেয়া ইন্সটিটিউট বিশ্বের প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধন করিয়েছে৷ তার মেয়ে ইতিমধ্যে এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন পুটিন৷

মঙ্গলবার পুটিন জানান, মানুষের দেহে প্রায় দুই মাস পরীক্ষা চালানোর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিয়েছে৷ মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘‘আজ সকালে নতুন করোনা ভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিনটি নিবন্ধিত হয়েছে৷’’

গামালেয়া ইন্সটিটিউটের প্রশংসা এবং ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমি আবার বলতে চাই, এটা (ভ্যাকসিন) প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা উৎরে এসেছে৷ এটি ব্যবহার করা নিরাপদ- এই নিশ্চয়তা এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কেও নিশ্চয়তা দেয়া যায়, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷’’

টিকা আবিষ্কারের দৌড়ে কে কত এগিয়ে

পৌনে দুইশ:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে আছে ১৭০ টির বেশি উদ্যোগ৷ একেকটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা-পর্ব সারতেই সাধারণত বছরের পর বছর সময় লাগে৷ তবে কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে তা ১২ থেকে ১৮ মাসে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা৷

প্রাক ক্লিনিক্যাল পর্ব

বেশিরভাগ প্রচেষ্টাই এখনো প্রাক ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে রয়েছে৷ এই ধাপে বিজ্ঞানীরা ভাইরাস বা তার কোনো একটি অংশ তৈরি করেন৷ সেটি অন্য প্রাণীদের উপর প্রয়োগ করে দেখেন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ঠিকঠাক সাড়া দিচ্ছে কিনা৷ ১৩৯ টি প্রচেষ্টা এখনো এই ধাপে আটকে আছে৷

প্রথম ধাপ

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম ধাপে সীমিত সংখ্যক মানুষের মধ্যে টিকাটি প্রয়োগ করা হয়৷ দেখা হয়, প্রাক ক্লিনিক্যাল পর্বে পশুর দেহে যেভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, মানুষের শরীরেও তা একইভাবে কাজ করছে কিনা৷ বর্তমানে ২৫টি টিকা রয়েছে এই ধাপে৷

দ্বিতীয় ধাপ

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছাতে পেরেছে ১৭টি ভ্যাকসিন৷ সম্ভাব্য টিকাটি কতটা নিরাপদ আর তা কী মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে, এই ধাপে মূলত সেটি দেখেন বিজ্ঞানীরা৷ এজন্য কয়েকশ’ মানুষের শরীরে টিকাটি পরীক্ষা করা হয়৷

তৃতীয় ধাপ

তৃতীয় ধাপে ভ্যাকসিন পরীক্ষার আওতায় আসেন কয়েক হাজার মানুষ৷ কার্যকরীতা, শরীরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার দিকগুলোতে এই পর্যায়ে বিজ্ঞানীরা মনযোগ দেন৷ এই ধাপটিতে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯-এর মাত্র ছয়টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন পৌঁছাতে পেরেছে৷

অনুমোদন

পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন বাজারজাতের অনুমোদন দেয় দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ৷ চীনের প্রতিষ্ঠান ক্যানসিনো বায়োলোজিক্স দেশটির একাডেমি অফ মিলিটারি মেডিক্যাল সায়েন্সের সাথে যৌথভাবে একটি টিকা উদ্ভাবন করেছে৷ দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় এর কার্যকারীতার প্রমাণও মিলেছে৷ তবে জুনেই জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ হিসেবে সেটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী৷ এ বিষয়ে বিস্তারিত আর জানা যায়নি৷

শেষ ছয়

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তৃতীয় ধাপে পৌঁছানো ছয়টি ভ্যাকসিনের দুটি চীনের৷ এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় ভাইরাস থেকে টিকা তৈরি করেছে সাইনোভেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান৷ জুলাইতে আরব আমিরাতে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু করেছে সাইনোফার্ম নামে দেশটির আরেকটি কোম্পানি৷ শেষ ধাপের এই দৌড়ে আরো আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানিও৷

আলোচনায় অক্সফোর্ড

করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে শুরু থেকে আলোচনায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়৷ ব্রিটিশ-সুইডিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে তারা৷ পৌঁছে গেছে তাদের উদ্ভাবিত টিকা পরীক্ষার শেষ ধাপে৷ দক্ষিণ আফ্রিকা আর ব্রাজিলে চলছে তার ট্রায়াল৷

ভ্যাকসিন নিয়েছেন পুটিনের মেয়ে

ভিডিও কনফারেন্সে পুটিন জানান, তার মেয়ে ইতিমধ্যে এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং তিনি ভালো আছেন৷ তিনি আরো দাবি করেন, ‘‘আমার এক মেয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছে এবং এক অর্থে সে ভ্যাকসিন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে৷’’

প্রথম দু’বার ভ্যাকসিন নেয়ার পর তার মেয়ের একটু জ্বর (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এসেছিল, তবে ‘‘পরে সব ঠিক হয়ে যায়৷ এখন সে ভালো আছে৷ তার অ্যান্টিবডি কাউন্টও এখন ভালো৷’’

বিডি/আ