প্রদীপ ও স্ত্রী চুমকি’র বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:

টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারন এর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার টাকার দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এ রোববার ২৩ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থ অর্জনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা নম্বর ১১/২০২০ ইংরেজি। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন ও মামলার বাদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী জানান, বরখাস্তকৃত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং তার স্ত্রী চুমকি’র সম্পদের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাদের পূর্বে প্রদত্ত সম্পদের হিসাবের সাথে প্রকৃত সম্পদের ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। পরে দুদকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

দুদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এর বিরুদ্ধে দুদকের মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় মুলত ২০১৮ সাল থেকে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণ এর সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য দুদক থেকে নোটিশ প্রদান করা হয়।

একই বছরের জুন মাসে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণ তাদের সম্পদের হিসাব দুদকে দাখিল করেন।

এই সম্পদ বিবরনীর আলোকে দীর্ঘ অনুসন্ধানে দুদক প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণ এর বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের তথ্য পান।

দুদক সূত্র জানায়, ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এর সব সম্পত্তিই তার স্ত্রী চুমকি কারণের নামে। যার কোন হিসাব প্রদত্ত জ্ঞাত আয়ের উৎসে নেই।

চুমকী কারণের নামে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে তিনি পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে খরচ করেছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

চুমকি কারণের পূর্বের সঞ্চয়, উপহার, বাড়িভাড়া থেকে বৈধ আয় হিসেবে ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় বাদ দিলে চুমকী কারণের নামে মোট ৩কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এটা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বিডি/কক্স