বিজিবি-বিজিপি’র সৌজন্য বৈঠক: সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়মিত যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত

পলাশ বড়ুয়া, সীমান্ত থেকে ফিরে:

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় এক বছর পর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার গার্ড পুলিশ মিয়ানমার (বিজিপি)’র মধ্যে সৌজন্য বৈঠক হয়েছে। এ সময় সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়মিত যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় সীমান্তে ঘুমধুমের ফ্রেন্ডশীপ ব্রিজের নিকটে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের এই স্বাক্ষাত হয়। কক্সবাজারস্থ সদর বিজিবি’র দপ্তর রিজিয়নের অপারেশন অফিসার লেঃ কর্ণেল সরকার মাহমুদ মোস্তাফিজুর রহমানের নেত্বত্বে বিজিবি’র ১১ সদস্য অংশ নেন। অপরদিকে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ২ নং সেক্টরের লে.কর্ণেল চে নাইং।

বৈঠক শেষে কক্সবাজার এর লে. কর্ণেল সর্দার মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতটি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়মিত ইস্যু৷ আমরা নিয়মিতভাবেই ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এ ধরনের সাক্ষাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। যেহেতু বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা আমাদের নিয়মিত সাক্ষাতের আয়োজন দীর্ঘদিন করতে পারিনি। তাই আজ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা বজায় রেখে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজকের আলোচনায় দুই দেশের নিয়মিত যৌথ টহল পুরনায় শুরু করার পাশাপাশি কার্যকরী সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তাই আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা করার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা মনে করি সৌহার্দপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি সীমান্তের যে কোন অনাকাংখিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব৷ আমাদের এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাত বিওপি পর্যায়ে হতে ব্যাটালিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিত ভাবেই এখন হতে পুনরায় শুরু হবে এবং তা স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে।

এছাড়াও বৈঠকে সীমান্তে ইয়াবা পাচার, চোরাচালান, অনুপ্রবেশসহ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বিষয় গুলো আন্তরিকতার সাথে দেখা হবে বলে আমাদের আশ্বাস্থ করেছে৷ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী উচ্চতর পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা স্বাভাবিক নিয়মেই চলমান আছে।

এসময় কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ, নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবি’র অধিনায়ক শাহ আবদুল আজিজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিডি/সিপ্র