মন্ত্রীকে তাপসের চ্যালেঞ্জ

বিডিদর্পণ ডেস্ক :

জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করতে ওয়েবিনারে অনুষ্ঠিত সভায় উত্থাপিত ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের এই মেয়র।|

পরে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন তা সরেজমিন পরিদর্শন করে আশানুরূপ মিল পাওয়া যায়নি।

বর্ষা মৌসুমে রবিবার রাতে টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। মঙ্গলবারও একই অবস্থা হয়, সড়কে পানির ঢেউ দেখে কেউ কেউ রসিকতার ছলে প্রশ্ন করেন, কোন নদীর ওপর দিয়ে যাচ্ছেন তারা?

এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন দফতর-বিভাগের গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষ থেকে অনলাইনে সভার আয়োজন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

রাতে থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে সোমবার তলিয়ে যাওয়া মিরপুর রোডে চলাচল হয় ব্যাহত। জুমে অনুষ্ঠিত সভায় মেয়র তাপস ছাড়াও ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। ঢাকা ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বাভাবিক উপায়ে পানি বের করতে না পারায় পাম্পিং করে পানি বের করা হচ্ছে বলে জানায়। তাদের বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করে মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, পাম্পিং হাউসগুলো সম্পূর্ণ কার্যকর নয়।

মন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই আমাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমান এই জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী সংস্থাগুলোর সংস্থা-প্রধান ও প্রতিনিধিবর্গ যেসব তথ্য দিয়েছেন, সে তথ্যগুলো পুরোপুরি সঠিক নয়। প্রয়োজনে আপনি সহকারে আমরা এখনই পরিদর্শনে যেতে পারি। সভায় যেসব তথ্য-উপাত্ত সেবা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা আমরা সরেজমিন যাচাই করতে পারি। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, উপস্থাপিত তথ্যগুলো সঠিক নয়। সেটি আমরা সরেজমিন স্পটে গিয়ে প্রমাণ করতে পারব।’

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এক ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে কর্মকর্তাদের নিয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর, ২২ নম্বর ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাল ও পাম্প স্টেশন পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও মেয়র তাপস।

এরপর সবাই সোনারগাঁও হোটেলের পাশে হাতিরঝিল স্লুইস গেট পরিদর্শনে যান। সে সময় স্লুইস গেট কবে থেকে উন্মুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে জানানো হয়, গত ১৩ জুলাই থেকে খোলা রয়েছে। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘চরমভাবে ব্যর্থ’ হয়েছে মন্তব্য করে এ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার অনুরোধ করেন মেয়র ফজলে নূর তাপস। অনলাইন সভায় তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর অর্পিত।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা সে দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। দায়িত্ব আমাদের দিন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এই ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করব।