মাকে বালিশ চাপায় হত্যার পর পাঁচ টুকরো করে ছেলে

নোয়াখালী

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ইউনিয়নের উত্তর জাহাজমারা গ্রামের প্রভিডা ফিডের পেছনে একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার পাঁচ টুকরো লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, খুনের শিকার হতভাগা নারী নুর জাহান বেগমের ছেলে হুমায়ুন কবির ছয় সহযোগীকে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে নিজের মাকে। এরপর দেহটি পাঁচ টুকরো করে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যায় হত্যাকারীরা। পরবর্তীতে লাশটি উদ্ধারের পর হুমায়ুনই আবার ৭ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, মামলার সূত্র ধরেই এই খুনের সঙ্গে ছেলের জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সাত আসামির মধ্যে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেফতার করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের মধ্যে নীরব ও নূর ইসলাম কসাই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

হুমায়ুন কবিরের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তার সৎ ভাই বেলাল প্রায় চার লাখ টাকা ঋণ রেখে মারা যায়। ওই ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য পাওনাদাররা হুমায়ুন কবিরকে চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে হুমায়ুন কবির তার মায়ের নামের সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মা ওই ঋণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরপর থেকে মা ও ছেলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সে তার ছয় সহযোগীকে নিয়ে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে নিজের মাকে হত্যা করে। পরে মরদেহ পাঁচ টুকরা করে জাহাজমারা গ্রামের একটি ধানক্ষেতে বিচ্ছিন্নভাবে ফেলে রাখে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর উপজেলার চর জব্বর ইউনিয়নের উত্তর জাহাজমারা গ্রামের প্রভিডা ফিডের পেছনে একটি ধানক্ষেত থেকে হুমায়ুন কবিরের মা নূর জাহান বেগমের শরীরের মাথা ও কোমরের দুই টুকরো অংশ উদ্ধার করে চর জব্বর থানা পুলিশ। পরদিন ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে খণ্ডিত গলা থেকে বুকের অংশ ও দুটি পাসহ তিনটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।