মেজর সিনহা হত্যায় গঠিত তদন্ত কমিটি সিফাত ও শিফ্রার বক্তব্য নেবে

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:

মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার তদন্তে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিফ্রা রানী দেবনাথ এর বক্তব্য নেবে। নির্ভরযোগ্য সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত ৩১ আগস্ট মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদকে গুলি করে হত্যার সময় সাহেদুল ইসলাম সিফাত ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী। পরে তার বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করে পুলিশ তাকে জেলে পাঠায়।

সোমবার ১০ আগস্ট আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে সাহেদুল ইসলাম সিফাত। বরগুনার বামনা উপজেলার পূর্ব শফিপুর গ্রামের নুরুল মোস্তফার পুত্র সাহেদুল ইসলাম সিফাত স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফ্লিম এন্ড মিডিয়া বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯ টার দিকে যখন মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে খুন হন, তখন তাদের ডকুমেন্টারি ফ্লিম তৈরির টিমের অপর ২ সদস্য যথাক্রমে ঢাকার স্টামফোর্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শিপ্রা রানী দেব ও তাহসিন রিফাত নুর ছিলেন-হিমছড়ি ‘নীলিমা রিসোর্ট’ নামক একটি কটেজে।

হিমছড়ি এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে রামু উপজেলাতে হওয়ায় রামু থানার হিমছড়ি ফাঁড়ির পুলিশ খুনের ঘটনার পর পরই এসে শিপ্রা রানী দেব ও তাহসিন রিফাত নুর’কে হিমছড়ি নীলিমা রিসোর্ট থেকে গ্রেফতার করে রামু থানায় নিয়ে যায়।

সেখান থেকে তাহসিন রিফাত নুর’কে তার অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় একটি মামলা রুজু করে শিপ্রা রানী দেব’কে গত ১ আগস্ট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। গত ৯ আগস্ট আদালত থেকে জামিন পেয়ে শিপ্রা রানী দেবনাথ কারামুক্ত হন।

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার হাজারাহাটি গ্রামের নব কুমার দেবনাথ এর কন্যা শিপ্রা রানী দেবনাথ। নব কুমার দেবনাথ বিজিবি’র একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

একটি ডকুমেন্টারি ফ্লিম তৈরি করতে সাহেদুর রহমান সিফাত, শিপ্রা রানী দেবনাথ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের সাথে গত ৩ জুলাই কক্সবাজার এসেছিলেন।

মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহবায়ক, লে. কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম এন্ড অপারেসন্স) মোঃ জাকির হোসেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শাজাহান আলি’কে সদস্য করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া যথাযথ আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত কমিটি মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের বড়বোন ও মোঃ শামসুজ্জামানের সহধর্মিণী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস (৪২) বাদী হয়ে চাকুরী থেকে বরখাস্ত হয়ে জেলে থাকা প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দলাল রক্ষিত, সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও লিটন মিয়া সহ ৭জনকে আসামীর বক্তব্য নেবে বলে জানা গেছে।

গত ৫ আগস্ট সকালে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়। যার টেকনাফ থানার মামলা নম্বর : ৯/২০২০, সিআর মামলা নম্বর : ৯৮/২০২০ ইংরেজি (টেকনাফ)।

বিডি/কক্স