রংপুরে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় এএসআই রায়হানুল গ্রেফতার

রংপুর প্রতিনিধি:

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বরখাস্তকৃত এএসআই  রায়হানুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পিবিআই। গত বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রংপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ ও বাবুল হোসেন। গত বুধবার রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের আদালতে অভিযুক্ত এই দুইজনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন এর আগে একই আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন নির্যাতিতা স্কুলছাত্রী।

গণধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতা করার অপরাধে সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ও সুরভী আক্তার সমাপ্তি নামে দুইজন গ্রেফতারকৃত আদালতে নেয়া হলে গত মঙ্গলবার তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে জানিয়েছেন সূত্র। পরে তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার ময়নাকুঠি কচুটারিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম।

প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ২৩ অক্টোবর সকালে ওই ছাত্রীকে বেড়াতে নিয়ে যান রায়হানুল। পরে পূর্বপরিচিত নগরীর বাহারকাছনা ক্যাদারেরপুল এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া সুমাইয়া পারভীন মেঘলার বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

পরে ওই ছাত্রী রাত ৯টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুনরায় সুমাইয়া পারভীন মেঘলার বাসায় এসে আশ্রয় চায়। পর দিন ২৪ অক্টোবর শনিবার রাতে ওই বাসায় মেঘলা তার বান্ধবী সুরভী আখতার সমাপ্তির সহযোগিতায় দুইজন যুবককে ডেকে এনে টাকার বিনিময়ে ওই ছাত্রীকে তাদের হাতে তুলে দেয়। সেখানে সে গণধর্ষণের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে পরদিন ২৫ অক্টোবর রোববার ওই নির্যাতিতা ছাত্রী রায়হানুলকে খুঁজতে শহরে আসে। সেখান থেকে টহল পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ ওই ছাত্রীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা পুলিশকে জানায়। পুলিশ তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। পরে অভিযুক্তদের রংপুর ও লালমনিরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সোমবার মামলাটি হারাগাছ থানা থেকে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।

রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, রায়হানুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রায়হানুলসহ এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।