রাখাইনে সেফ জোন প্রতিষ্ঠা: রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে উৎসাহিত করবে

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। ফাইল ছবি

বিডিদর্পণ ডেস্ক:

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।

রাখাইনে তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা জরুরি এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো মোহাম্মাদ শহীদুল হক।

শহীদুল হক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া এখনও নিরাপদ নয়। সেই জন্য সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেফ জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবাই মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে, কিন্তু বাংলাদেশ মানবাধিকার রক্ষা করে দেখিয়েছে।’

সেফ জোন কী:

কোনও দেশে যদি সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করে তবে ওই দেশের মধ্যে একটি অঞ্চলকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করা হয়; যাতে করে যারা উদ্বাস্তু হয়েছে, তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহ বোধ করে।

শহীদুল হক বলেন, ‘এটি দুইভাবে করা যায়। প্রথমত, বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এবং নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের মাধ্যমে।’

এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার সেফ জোন করতে আগ্রহী নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদ এর আগে ১৯৯১ সালে কুর্দিস জনগণের জন্য ইরাকে একটি সেফ জোন তৈরি করেছিল।’

সেফ জোন কেন দরকার:

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা নির্যাতনের শিকার এবং এ কারণে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি না পেলে তারা রাখাইনে যেতে আগ্রহী হবে না। এ বিষয়ে সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার এখনও রাখাইনে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অপারেশন চালাচ্ছে; যা তাদের জন্য ভীতিকর।

এ পরিস্থিতিতে আসিয়ান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে করে রোহিঙ্গারা আশ্বস্ত হয় যে, তাদের ওপর নির্যাতন হবে না।’

রাখাইনের মংদু, বুথিডং ও রাথিডংয়ে তিনটি ছোট সেফ জোন করা সম্ভব জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘এই তিনটি অঞ্চল পাশাপাশি এবং এদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সেফ করিডর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যাতে করে এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে যেতে পারে।’

সেফ জোনে খাদ্য, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক সুবিধা বিদ্যমান থাকা জরুরি এবং এর ফলে সেখানে থাকতে রোহিঙ্গারা উৎসাহ বোধ করবে বলে জানান শহীদুল।

যতদিন রাখাইনে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরত না আসছে, ততদিন রোহিঙ্গারা সেফ জোনে থাকতে পারবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার নিজেদের আবাসস্থলে ফেরত যেতে পারবে।

রেড ক্রস, ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সেফ জোন দেখাশোনা করার কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব জানিয়ে শহীদুল বলেন, ‘মিয়ানমার আসিয়ানের সদস্য এবং তারাও এখানে অংশগ্রহণ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার রক্ষা ও রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের জন্য সেফ জোন করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বোঝা উচিত, ফেরত যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের সারাজীবন অপেক্ষা করতে হবে, এ ধরনের একটি অপশন কারো জন্য ভালো হবে না।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

বিডি/রো