রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসার অর্থের যোগান দাতা কারা?

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। ফাইল ছবি

শফিক আজাদ:

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক গড়ে উঠা সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন ‘আলেকিন’ এর অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায় অর্থের জোগান দাতা কারা? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। এর পেছনে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে আলেকিনের শক্ত অবস্থান। সাধারণ রোহিঙ্গারা তাদের হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

সরজমিন উখিয়ার কুতুপালং, লম্বাশিয়া,মধুরছড়া, বালুখালী, ময়নারঘোনা, জামতলী, তাজনিমারখোলা ক্যাম্প ঘুরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, দিনের বেলায় যেমন-তেমন রাতের বেলায় ক্যাম্প এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রাত গভীর হলে সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আলেকিনের সদস্যরা ক্যাম্পে মহড়া এবং আধিপত্য বিস্তার করে থাকেন। তাদের অস্ত্র এবং ইয়াবার ব্যবসার পেছনে অর্থের যোগান দাতাদের মধ্যে উঠে এসেছে উখিয়ার স্বনামধন্য দুই ব্যবসা প্রতিষ্টানের নাম।

তারা উখিয়ার প্রতিটি ক্যাম্পে আলেকিন গ্রুপের সদস্যরা অগ্রিম টাকা দিয়ে এনজিও কর্তৃক সরবরাহকৃত যেকোন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী অল্প দামে ক্রয় করে গুদামজাত করে আসছে। এই ব্যবসার লভ্যাংশের বিশাল একটি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে অস্ত্র কেনার কাজে। এছাড়াও এই দুই প্রতিষ্টান ইয়াবা ব্যবসায়ও অর্থ পুঁজি করে থাকেন রোহিঙ্গাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর থেকে ১৩লাখ পিস ইয়াবাসহ মােঃ আয়াছ নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করে।

সে উখিয়ার বালুখালী ১৩ নাম্বার ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা মোঃ বশির আহমদের ছেলে। আয়াছ আলেকিনের একজন বড় নেতা । ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে এক কাপড়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিল ক্যাম্পে।

ইয়াবা ব্যবসা করে সে এখন কোটিপতি। তার মতো আরো অনেকে ইয়াবা ব্যবসা করে এখন কোটিপতি বনে গেছে বিভিন্ন ক্যাম্পে। আয়াছ র‌্যাবের হাতে আটক হলেও তার ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে আলেকিন গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা।

তাদের মধ্যে রয়েছে-বালুখালী ১১ নাম্বার ক্যাম্পের ডি-ব্ললকের বাসিন্দা মোঃ আলী ছেলে মোঃ শফিক এবং সি বøকের রফিক। শফিক হচ্ছে স¤প্রতি ওসি প্রদীপের সাজানো বন্ধুকযুদ্ধে নিহত উখিয়ার কুতুপালং ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মৌলভী বখতিয়ার আহমদের সাথে পুলিশের হাতে আটক রোহিঙ্গা জাহাঙ্গীর আলমের ভগ্নিপতি।

তার ব্যবসাও দেখবাল করেন এই শফিক। এরা ২জন পুরো ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে ত্রাণের মালামাল ক্রয় থেকে শুরু করে প্রতিটি দোকান থেকে ৫শ ১হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকেন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বালুখালী ২ নাম্বার ক্যাম্পে হেড মাঝি আরিফ উল্লাহ ও রোহিঙ্গা নেতা আব্দুল্লাহ খুন হয়।

সাম্প্রতি ১১নাম্বার ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা রোহিঙ্গা ডাক্তার আকতারকে দিন দুপুরে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে ১১ নাম্বার ক্যাম্পের মোঃ ইউনুছ প্রকাশ আব্দুল্লাহ এবং কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার মাস্টার মুন্না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন রোহিঙ্গারা বলেন, গুটি কয়েক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কারনে দেশে-বিদেশে পুরো রোহিঙ্গার গোষ্ঠির দুর্নাম হচ্ছে। সুতারাং এসব রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে তাদেরকে খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি দিন দিন হুমকি মূখে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বালুখালী ২ নাম্বার ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ জাগির জানান, আলেকিনের তৎপরতা এবং আলেকিন নেতা শফিক ও রফিকের ব্যাপারে আমি অবগত নয়। সুতারাং এনিয়ে কিছু বলতে পারবনা। তবে খোঁজ খবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি বলেন।

বিডি/রো