রোহিঙ্গা ক্যাম্প অস্থিতিশীল করছে উগ্রবাদি সন্ত্রাসীরা

শাহেদ মিজান:

নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হত্যা-ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা। প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসে বাংলাদেশের দিকে।

মানবতার খাতিরে চরম অসহায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আশ্রয় পেয়ে কেটে যায় তাদের অসহায়ত্ব। পায় বসবাসের ঘর  এবং কোনো পরিশ্রমবিহীন ঘরে পৌঁছে যায় খাবারসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। এতে যেন সবল হয়ে উঠেছে পরদেশে আশ্রয় নেয়া এই রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশে ঠাঁই পাওয়ার বেশি সময় না যেতেই উগ্র হয়ে উঠতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। শুরু করে নিজেদের মধ্যে মারামারি, খুনোখুনি আর দাঙ্গাহাঙ্গামা। এতে ইতোমধ্যে অনেকে প্রাণহানি ঘটেছে।

কিন্তু তবুও থামছে না তারা বরং তাদের উগ্রতা আরো বাড়ছে। যার সর্বশেষ প্রমাণ নিজেদের মধ্যে সংর্ঘষে এক সপ্তাহে ৬জনের প্রাণ কেড়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। তার মধ্যে দুই বাংলাদেশী যুবকও মারা পড়েছে। এখন সন্ত্রাসীদের ভয়ে এখন শত শত সাধারণ রোহিঙ্গা পালাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাজ-কর্মহীন বেকার জীবন আর খাবারের অভাব না থাকায় রোহিঙ্গারা এখন বেশ সবল। তাই তারা এখন নিজেদের মধ্যে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের একটি অংশ আধিপত্য বিস্তার, মাদক আর অস্ত্র ব্যবসা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়েছে। এতে প্রায় ঘটছে সংঘর্ষ আর খুনোখুনি।

এই উগ্রবাদিরা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে উগ্রবাদ চালাতে চায়। অন্যদিকে আরাম-আয়েশের জীবন পাওয়ায় সাধারণ রোহিঙ্গারাও ফেরত যাচ্ছে না।

আশ্রিত এসব রোহিঙ্গারা শুধু নিজেদের মধ্যে সংঘাত করছে তা না। তারা ইতোমধ্যে স্থানীয় লোকজনকেও হামলা করেছে। কেড়ে নিয়েছে জমি-জমা। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যেভাবে বাড়ছে তাতে স্থানীয়রাও আরো বেশি ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাতে স্থানীয়দের অনেকে এখন অসহায় জীবন যাপন করছে।

সচেতন লোকজন মনে করছেন, কঠোরভাবে উগ্রবাদি রোহিঙ্গাদের লাগাম টানতে হবে। তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। না হয় শুধু ক্যাম্প নয়; ক্যাম্পের বাইরেও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ছড়িয়ে পড়বে। বড় বিপদের মুখে পড়তে স্থানীয়রাও।

এই বিষয়ে ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলার রক্ষায় নিয়োজিত কক্সবাজার ১৭ এপিবিএন এর অধিনায়ক হেমায়েতুল ইসলাম  বলেছেন কঠোরতার কথা।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে সবাই কিন্তু সংঘর্ষ করছে না। কয়েকটি উগ্রবাদি গোষ্ঠী গ্রুপ এই সংঘর্ষ করছে। মূলত আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ, চাঁদাবাজির জন্য তারা এই সংঘর্ষ করছে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আমরা সব সময় তৎপর রয়েছি। রাতদিন আমাদের সদস্যরা টহল রয়েছে। আমাদের অভিযান জোরদার রয়েছে।

বিডি/রো/কক্স