সাহেদ ও সাবরিনার ব্যাংক হিসাব জব্দ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ এবং জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন

বিডিদর্পণ ডেস্ক:

চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবয় করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ এবং জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে একবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এনবিআরের সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনাকে গ্রেপ্তারের পরদিনই আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছি। সাবরিনা ও মো. সাহেদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বলেছি।”

এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কে সি লিমিটেডের পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করতে বলা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন বলেন, “তাদের ব্যাংক হিসাবে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল দেওয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ রিজেন্ট হাসপাতালে নানা অনিয়মের খবর সম্প্রতি প্রকাশ্য হয়েছে র‌্যাবের অভিযানের মধ্য দিয়ে।

গত সপ্তাহে ওই অভিযানের পর রিজেন্টের দুটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় র‌্যাব। ওই হাসপাতালের অনুমোদনও বাতিল করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বুধবার সকালে সাতক্ষীরা দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবে। গোয়েন্দা পুলিশ এখন তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

আর ওভাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার- সংক্ষেপে জেকেজি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করে পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু তারা নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া সনদ দিচ্ছিল এবং দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল বলে গত মাসে পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।

এরপর জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরিফুলের স্ত্রী জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনাকেও গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি সরকারি চাকরির নিয়ম ভেঙে জেকেজির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ ইতোমধ্যে আরিফুল ও সাবরিনাকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে সাবরিনাকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।