সিনহা কত্যাকাণ্ড: র‍্যাব হেফাজতে সাবেক ওসি প্রদীপ, লিয়াকত, নন্দলাল

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:

মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার মূল আসামি কক্সবাজার জেলা কারাগারে থাকা বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বরখাস্ত হওয়া ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও বরখাস্ত হওয়া এসআই নন্দলাল রক্ষিতকে রিমান্ড করার জন্য IO এর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এই ৩ আসামিকে মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট সকাল ১১ টা ২০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যায় তাঁর বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এর করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলামের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল নিশ্চিত করেছেন।

কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে আইও’র এর নেতৃত্বে র‍্যাব-১৫ এর একটি টিম উল্লেখিত ৩জন আসামীকে নেওয়ার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত এ ৩জন আসামিকে র‍্যাব-১৫ এর প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে রিমান্ড কার্যকর করা হবে। নির্ভরযোগ্য সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ তিন জন আসামীকে ৭দিন রিমান্ড করা হবে। গত ৬ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে এ তিন জন আসামীর প্রত্যেককে ৭দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার এজাহারভুক্ত বাকী ৪ আসামী পুলিশের বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া এবং সন্দেহজনকভাবে ধৃত ৩ আসামি টেকনাফের বাহারছরার মারশবনিয়া এলাকার নাজিম উদ্দিন নাজু’র পুত্র নুরুল আমিন, নজির আহমদের পুত্র নিজাম উদ্দিন ও জালাল আহমদের পুত্র মোহাম্মদ আয়াছ গত ১৪ আগস্ট থেকে রিমান্ডে রয়েছেন।

এই ৭ জন আসামীকে রিমান্ড করার জন্য কারাগার থেকে গত ১৪ আগস্ট সকালে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলার আইও সিনিয়র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম এর হেফাজতে নেন।

গত ৩১ জুলাই খুন হওয়া মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের বড়বোন ও মোঃ শামসুজ্জামানের সহধর্মিণী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস (৪২) বাদী হয়ে চাকুরী থেকে বরখাস্ত হওয়া প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দলাল রক্ষিত, সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া সহ ৯জনকে আসামী করে টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ৫ আগস্ট সকালে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

যার টেকনাফ থানার মামলা নম্বর : ৯/২০২০, জিআর মামলা নম্বর : ৭০৩/২০২০ ইংরেজি (টেকনাফ)। এছাড়া সিনহা হত্যাকান্ডের পর টেকনাফ মডেল থানায় পুলিশের দায়েরকৃত জিআর ৫৯৬/২০২০ এবং ৫৯৭/২০২০ নম্বর মামলা ২টিও বিজ্ঞ আদালতের আদেশে র‍্যাব-১৫ তদন্ত করছে।

বিডি/কক্স