সিনহা হত্যাকাণ্ড: বরখাস্ত ওসি প্রদীপকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নেয়া হয়েছে

ফাইল ছবি

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:

টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ’কে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯ টার দিকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রক্ষী দিয়ে তাকে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সোমবার ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হবে। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট মামলা করে দুদক। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই মামলার পর দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় মূলত ২০১৮ সাল থেকে। দুই বছর অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের ‘প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায়’ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম আদালতে প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা আরো ৫ টি মামলা রয়েছে। কক্সবাজারে মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ হত্যা মামলা সহ তার বিরুদ্ধে ১৩ টি হত্যা মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন আরো জানান, প্রদীপ কুমার দাশকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম আদালতের কার্যক্রম শেষ হলে চট্টগ্রাম আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে আবারো কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ থেকে ফেরার পথে মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এরপর গত ৫ আগস্ট টেকনাফ থানার পরিদর্শক লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি র‌্যাব-১৫ তদন্ত করছে। তারা মামলার ১৩ আসামিকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ মামলায় প্রদীপ ছাড়া ১২ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

আ/সি/ও