‘স্বজনদের সঙ্গে মোবাইলে কথাও বলতে পারবেন না ওসি প্রদীপ’

বরখাস্ত ওসি প্রদিপ। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

কারাগারে বসে স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলতে পারবেন না অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশ।

স্বজনদের সঙ্গে কারাগার থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ চেয়ে মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের তীব্র বিরোধিতা করেন। চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালতে প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন। তবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পৃথক একটি আবেদন আমলে নিয়ে আদালত জেল কোড অনুযায়ী ওসি প্রদীপের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সরকারি প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত আদালতে ওসি প্রদীপের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, যে মামলায় প্রদীপকে আদালতে হাজির করা হয়েছে সেই মামলাটি কোনো নৃশংস অপরাধের মামলা না চাঁদাবাজির মামলাও না। করোনা পরিস্থিতিতে যেহেতু দেখা করার সুযোগ নেই তাই তিনি (ওসি প্রদীপ) কারাগারে বসে মোবাইল ফোনে স্বজনের সঙ্গে কথা বলার অধিকার রাখেন।

দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু যুগান্তরকে বলেন, দুদকের মামলায় মঙ্গলবার নিয়মিত ধার্য তারিখ ছিল। আদালতে প্রদীপ কুমার দাশকে কারাগার থেকে তার পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার অনুমতি দেয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

দুদকের পক্ষে আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করি। হত্যা মামলা ও চাঁদাবাজি মামলার কোনো আসামিকে এমন সুযোগ দেয়ার অবকাশ নেই। আদালত শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারণের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন। এ মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদীপ কুমার দাশের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।

দুদকের মামলার এজাহার বলা হয়, প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকী কারণের বিরুদ্ধে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেন তিনি।

বিডি/চপ্র